স্বাধীনতার বরপুত্র ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’

স্বাধীনতার বরপুত্র ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’

তোমার প্রকাশ হোক

কুহেলিকা করি উদঘাটন

সূর্যের মতন।

রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন।

         বাঙালির প্রাণের স্পন্দন বঙ্গবন্ধু। তাঁকে বিশেষিত করা যায় নানা অভিধায়। তাঁর মনে ছিল অমিত নক্ষত্রধারা, বাংলার সোঁদামাটির ঘ্রাণ, তেজস্বী পালি.....। তিনি সেই মহামানব যিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতা। তিনি ছিলেন এমনই একজন শিল্পী যিনি বিশ্ব ক্যানভাসে এঁকেছেন বাংলাদেশের মানচিত্র, ইতিহাসের বিস্ময়কর নেতৃত্বের কালজয়ী ¯স্রষ্টা, রাজনীতির কবি ,স্বপ্ন ফোটানোর এক মালী, জাতিকে এক সূতায় গাঁথায় নিখুঁত কারিগর, ইতিহাসের সুনিপণ কর্মকার, তিনি বাংলার বন্ধু, বাঙালির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

         বঙ্গবন্ধু শুধু একটি ব্যক্তির নাম নয়, তিনি আমাদের আদর্শ। একটি আন্দোলন। একটি বিপ্লব। একটি অভ্যুত্থান। জাতি নির্মানের কারিগর, বাঙালির মহানায়ক, ইতিহাসের বর পুত্র।

         বাংলার স্বাধীন রাজা শশাংঙ্ক থেকে শত শত বর্ষ ধরে হাজারো বাঙ্গালি লড়াই সংগ্রাম করেছে বাঙালির মুক্তির জন্য। কিন্ত বার বার সে আন্দোলনে সে ব্যর্থ হয়েছে  ঐক্য ও সঠিক নেতৃত্বের অভাবে । একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই সেই নেতা ও বীর যিনি এক দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন করেছিলেন বাঙ্গালির স্বপ্ন। তাই তো তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির পিতা, স্বাধীনতার মহান স্থপতি এবং কালান্তরের ইতিহাস। আব্রাহাম লিংকন থেকে লেলিন, গান্ধী, জিন্নাহ, মাও সেতুং এর মতো বিশ্ব বরেণ্য নেতাদের এত কৃতি কি কারো ভাগ্যে জুটেছে? ইতিহাসের সেই অনন্য সাধারণ কৃতিত্বের এক মাত্র বর মাল্য পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

         বঙ্গবন্ধু ছিলেন লোক ধর্মসিক্ত মানবতা বাদী রাজনৈতিক নেতা ও সমাজ সংগঠক। নেতা হিসেবে তিনি ছিলেন অপরিসীম মানবীয় গুণে গুণান্বিত। বিশেষ করে ব্যক্তিত্বে ও নেতৃত্বে তাঁর ছিল ঐন্দ্রজালিক শক্তি। ভৌগলিক সীমা-কাল- ভাষা, ঐ কালের সমাজ কাঠামো অর্থাৎ জীবন যাপনের অবস্থা থেকে যে সমস্যা সৃষ্টি হয় সেই অবস্থা থেকে মুক্তির দিক নির্দেশনা দেন তিনি। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ নীহার রঞ্জন রায় তাঁর ‘বাঙ্গালির ইতিহাস’ : আদি পর্ব গ্রন্থে বলেছেন ‘গৌড় নাম লইয়া বাংলার সমস্ত জনপদ গুলিকে ঐক্যবদ্ধ করিবার যে চেষ্টা শশাঙ্ক, পাল ও সেন রাজারা করিয়া ছিলেন সে চেষ্টা সার্থক হয় নাই। সেই সৌভাগ্য লাভ ঘটিল বঙ্গ নামের, যে বঙ্গ ছিল আর্য সভ্যতা ও সংস্কৃতির দিক হইতে ঘৃণিত ও অবজ্ঞাত এবং যে বঙ্গ নাম ছিল পাল ও সেন রাজাদের কাছে কম গৌরব ও আদরের। কিন্তু সমগ্র বাংলাদেশের বঙ্গ নাম লইয়া ঐক্যবদ্ধ হওয়া হিন্দু আমলে ঘটে নাই, তাহা ঘটিল তথাকথিত পাঠান আমলে এবং পূর্র্ণ পরিনতি পাইল আকবর আমলে, যখন সমস্ত বাংলাদেশ সুবা বাংলা নামে পরিচিত হইল । ইংরেজ আমলে বাংলা নাম পূর্ণতর পরিচয় ও প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছে।’

         ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ সময় ধরে বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বের অপেক্ষায় সময়ের পরিসর অতিক্রম করেছে। বাঙালি জাতির ললাটে স্বপ্নের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি সকল অর্থেই বাাংলাদেশ জাতির স্বদেশের প্রতিচ্ছবি। বাঙ্গালির জাতীয়তাবাদে স্থপতি হিসাবে তিনি দীর্ঘ কাল ধরে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পে জর্জড়িত আমাদের চেতনাকে মুক্ত করেছিলেন আবহমান বাংলার বৈশিষ্ট্যর, জাতীয় চরিত্র, গণআন্দোলনের মহান গুনাবলি এবং শোষিত নিপীড়িত মানুষের আশা-আকাঙ্খা ও বেদনাকে ভালোবাসায় ও সহমর্মিতায় তাঁর নিজের মধ্যে আত্মীকরণ করেন। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন

“স্বদেশকে একটি বিশেষ ব্যাক্তির মধ্যে আমরা উপলব্ধি করতে চাই।

এমন একটি লোক চাই, যিনি আমাদের সমস্ত কাজের প্রতিমাস্বরূপ হবেন।

তাঁকে অবলম্বণ করেই আমরা আমাদের বৃহৎ স্বদেশীয় সমাজকে ভক্তি করব,

সেবা করবো। তাঁর সঙ্গে যোগ রেখেই সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গে

আমাদের যোগ রক্ষিত হবে।”

         রবীন্দ্রনাথ যে মনুষটিকে খুঁজেছিলেন প্রকৃতপক্ষে তিনি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যাঁর সন্ধান পেতে আমাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

         ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ এই বাংলাদেশের গোপালগঞ্জস্থ অজপাড়াগাঁ টুঙ্গিপাড়ায় যেদিন শেখ মৌলবি লুৎফর রহমানের ঘর ও বেগম সাহেরা খাতুনের কোল আলো করে যে শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়েছিল সেদিন কেউ কি জানতো যে, এই শিশুই বাংলার ভাগ্যহত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মুক্তির দূতরূপেই আর্বিভূত হবেন একদিন।

         আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ কোন আকষ্মিক ঘটনা নয়। জাতির পিতার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙ্গালি জাতির দীর্ঘ চব্বিশ বছরের স্বাধীনতা সংগ্রামের চুড়ান্ত ফসল ছিল গৌরবদীপ্ত স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙ্গালি জাতির স্বপ্ন দ্রষ্টা এবং স্বাধীনতার রূপকার। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, তিনি বলেছিলেন -

         ‘শ্মশান বাংলাকে আমরা সোনার বাংলা করে গড়ে তুলতে চাই। সে বাংলায় আগামী দিনের মায়েরা হাসবে, শিশুরা খেলবে। আমরা শোষণ মুক্ত সমাজ গড়ে তুলবো’। এই স্বাদ ও স্বপ্নের জন্যই আমাদের স্বাধীনতা অনিবার্য ছিল। যেখানে পা থেকে মাথা পর্যন্ত মানুষ হবে আধুনিক ও উন্নত-সেই দেশ পাওয়ার জন্যই স্বাধীনতার ঠিকানার সন্ধান ।

‘মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার সর্বসাধন সিদ্ধ হয় তার’

         সত্য ও সুন্দরের পথে চললে মানুষের দর্শন পাওয়া যাবে। (লালন) বঙ্গবন্ধুকে সঠিক ভাবে চিনলেই বাংলাদেশকে চেনা হবে। তিনি হচ্ছেন ঠিকানা প্রদানের সংগ্রাম, একটি ইতিহাস, বাঙ্গালি জাতির ধ্রুবতারা।

         বঙ্গবন্ধুর সকল কর্ম প্রেরণার উৎস ছিল বাঙ্গালি এবং মানব সম্প্রদায়ের জন্য তাঁর ভালোবাসা। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব - এই সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক পথ পরিক্রমায় জাতির পিতাকে বহু ত্যাগ ও সংগ্রাম এর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে।

         ষাটের দশকে বাঙ্গালির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষনা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, উনসত্তরের গনঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কারাগারে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে ও অবিচল থেকেছেন তিনি। সংগ্রামী এই জীবন শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু ও জাতির পিতার মর্যাদায় আসীন করেছে। এই সময় তিনি নিজে যেমন সংগ্রামী চেতনায় বেড়ে উঠেছেন পুরো জাতিকেও অনুরূপ বেড়ে উঠার অনুপ্রাণিত করেছেন। জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে তাঁর জীবনের মূল্যবান অনেক সময় কারাবন্দী হিসেবে কাটাতে হয়েছে।

         ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১- এই ২৪ বছর বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালি জাতির মনে সূর্যের আলোর প্রদীপ্ত শিখা প্রজ্বলিত করেছেন, জাতিকে করেছেন আত্মসচেতন, জাগিয়েছেন জাতীয়তাবাদের বোধশক্তি, দিয়েছেন শ্লোগান ‘জয় বাংলা’। পাকিস্তানি সামরিক জান্তার সমস্ত ষড়যন্ত্র বাতাসে উড়িয়ে দিয়ে বাংলার জনগণের অনুভূতি ও অন্তরাত্মায় মিশে যান। সেই সঙ্গে ‘জয় বাংলা’ দিয়ে বাঙ্গালি জাতিকে একটি চেতনায়, একটি ভাবধারায়, একটি আকঙ্খায় তিনি ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। অবশেষে ৭০’র নির্বাচনের পথ পেরিয়ে ঘুমন্ত বাঙ্গালি জেগে উঠল গ্রাম বাংলার হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার সুরে। উপনিত হলো ৭১’র সাত মার্চের মিলন মোহনায়।

         বঙ্গবন্ধু ‘স্বাধীনতা’ শব্দটিকে যক্ষের ধনের মতো বাঙ্গালির হৃদয়ে চিরকালের জন্য গেঁথে দিয়েছিলেন ১৯৭১ এর ৭ই মার্চ। ঐতিহাসিক রমনা উদ্যানের ঐতিহাসিক ভাষণে-     

         “এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”- সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের হয়ে গেলো। (নির্মলেন্দুগুণ)। সেই থেকে রক্তের মতো সত্য হয়ে গেল স্বাধীনতা শব্দটি। হয়ে গেলো নিশ্বাস-প্রশ্বাসের মতো অবিচ্ছিন্ন। তাঁর দীপ্তময় আবেগ মিশ্রিত অলিখিত এ ভাষণটির মাধ্যমে সমগ্র বাঙ্গালি জাতি এক মুহুর্তে সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। দিনে দিনে এভাবেই তিনি গণমানুষের নেতা হয়ে উঠেছিলেন। ভাষণটি হয়ে উঠেছিল শাণিত চেতনার ভয়ঙ্কর মরণাস্ত্র -যা প্রতিটি বাঙ্গালিকে নির্ভয়ে শত্রুর বুলেটের সামনে বুক পেতে দিতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। সেদিনের লড়াইটা ছিল মুজিব কেন্দ্রিক। মুজিবের জন্য এই মুক্তিযুদ্ধ, মুজিবের জন্য রক্ত দান, জীবন দান।

         প্রখ্যাত লেখক আবুল ফজলের ভাষ্যে- ‘সারা বাংলাদেশে শেখ মুজিবের নাম এক জাদুমন্ত্র। শিক্ষিত-অশিক্ষিত, শিশু-বৃদ্ধ, অন্তঃপূরিকা বধু সকলের মনে এ নাম বয়ে আনে এক অপূর্ব শিহরণ এই নাম তাদের সামনে অন্ধকারে এক উজ্জ্বল দ্বীপ শিখা। শেখ মুজিব বাঙ্গালির মনে অনেক সূর্যের আশা।’

         বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালি জাতিকে ঐক্যর বাঁধনে বেঁধে ছিলেন আর সেই ঐক্য সাধনে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল মনোবল। এ লড়াইয়ে অমোঘ অস্ত্রটি বঙ্গবন্ধু একাত্তরে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার বার্তা প্রেরণের মাধ্যমে স্বদেশ বাসির হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সম্প্রচারিত বার্তাটির প্রথম বাক্যটি ছিল ‘আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।’ সেদিন বাঙালির স্বপ্নে-জাগরণে, নিশ্বাস-প্রশ্বাসে, রক্তকণায় নৃত্য করতো শেখ মুজিবের সংগ্রামী সমুচ্ছাস। তবেই না মুক্তিকামী মানুষেরা না খেয়ে, না পরে, না ঘুমিয়ে, বনে-জঙ্গলে, নদীতে-প্রান্তরে, মাঠে-ঘাটে-ধানক্ষেতে, কাদাপানিতে, অন্ধকারে যুদ্ধ করেছে মৃত্যুপরোয়াহীন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে শত্রু মুক্ত করে স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হয় বাঙালি জাতি। এর পর এলো বন্ধনহীন প্রাণের উৎসবের দিন। মহিমান্বিত বিজয় ১৬ই ডিসেম্বর। বাঙ্গালির জাতীয়তাবাদের অগ্রনায়ক বাঙ্গালিকে উপহার দিলেন ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি, এই জাতীয় সংগীত গাইবার, লাল-সবুজের পতাকা উড়াবার আর জাতিসংঘে বাংলা ভাষায়  বক্তৃতা করবার।

         বাংলাদেশের মহান বিজয় দেখার সৌভাগ্য যাদের হয়েছে তারাই অনুভব করতে পেরেছিলেন এ বিজয় কত বড়, কত মহৎ, কত আনন্দের, কত স্ফুর্তির, কতনা সূখানুভূতির। সেদিনের সেই বিজয়ের কাছে জুলিয়াস সীজারের বিজয়, কলম্বাসের আমেরিকা আবিস্কারে জয় ও তুচ্ছ ছিল। সেদিন অন্যরকম সূর্যালোকের জ্যোর্তিময় আলোয় আলোকিত ছিল চারিদিক। সেদিন না ফোটা ফুল গুলিও ফুটতে শুরু করেছিল। আপন প্রণোদনায় হিমেল হাওয়ায় পাপড়ি থেকে উড়ে যাচ্ছিল মিষ্টি সুরভী। নদী থেকে উৎসারিত হচ্ছিল ‘সবকটা জানালা খুলে দাওনা/আমি গাইব/গাইব বিজয়ের গান। রবীন্দ্র সুরে ধ্বনিত হয়েছিল ‘আজি প্রাতে সূর্য ওঠা সফল হল কার’ সেতো সবার প্রিয় মুজিব ভাইয়ের। নদী, পাখি, ফুল, বৃক্ষ, মানুষ- সবাই বলছিল আমিই মুজিব, আমিই বঙ্গবন্ধু। কারণ বিজয় মানেই মুজিবের বিজয়, বিজয় মানেই তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়। তবে সে বিজয় আরো পূর্ণতা পায় বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের প্রগতিশীল ধারার প্রবক্তা, বাঙ্গালির স্বাধীনতার মহানায়ক, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু যেদিন পাকিস্তানের কারাগার থেকে ‘অমারাত্রির দূর্গতোরণ’ ভেঙ্গে স্বগৌরবে ফিরেছিলেন বাংলার মাটিতে। ১৯৭২ সালের এই দিনটিতে দিকে দিকে ঘাসে-ঘাসে আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হচ্ছিল হিমালয় তুমি, হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা তুমি, তোমার তুলনা তুমি, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। জনগণ নন্দিত বঙ্গবন্ধু সেদিন ঐতিহাসিক ধ্রপদী বক্তৃতায় বলেন,

         ‘যে মাটিকে আমি এত ভালোবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালোবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারব কিনা। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইদেরকাছে মায়েদেরকাছে, বোনদেরকাছে, বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।

         বঙ্গবন্ধু মৃত্যুঞ্জয় হয়ে আছেন বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের অকৃত্রিম ভালোবাসায়। রবি ঠাকুরের ফাগুন দিনের বকুল চাঁপা হয়ে, নজরুলের ভোরের পাখি হয়ে, অরুণ আলোর খেয়া হয়ে বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। আজীবন তাঁর মঙ্গলময় স্পর্শ আমাদের উপর থাকুক।

মহাকবি শেলীর ভাষায়-

সে বেঁচে আছে, সে জেগে আছেন

মৃত্যুই গতায়ু আজ, সে নয় কখনোই।


লেখকঃ মোসাঃ আমাতুল হাফীজ

প্রধান শিক্ষক, হরিণখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সদর, বাগেরহাট।