সরকার শিগগিরই জনগণকে টিকা দিতে পারবেঃ রাষ্ট্রপতি

সরকার শিগগিরই জনগণকে টিকা দিতে পারবেঃ রাষ্ট্রপতি

সরকার শিগগিরই জনগণকে করোনার টিকা প্রদানে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সংসদে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় দ্রুত ভ্যাকসিন কেনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরাসরি কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় জরুরিভিত্তিতে ভ্যাকসিন কেনা বাবদ ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদান করা হয়। আশা করছি, সরকার খুব শিগগিরই দেশের জনগণকে কোভিড-১৯-এর টিকা প্রদান করতে পারবে।’

এদিকে রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে সুশাসন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে রাজনৈতিক দলসহ সব শ্রেণী ও পেশার মানুষকে ঐকমত্য গড়ে তুলে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি সোমবার সংসদের অধিবেশন শুরুর পর ভাষণ দেন। প্রতিবারের মতো এবারও তিনি মন্ত্রিসভার ঠিক করে দেওয়া ভাষণের সংক্ষিপ্তসার পড়েন। এর আগে বিকাল সাড়ে ৪টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবার বছরের শুরুতে অধিবেশনের প্রথম দিন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার তা করা হয়নি।

কোনও সংসদের প্রথম এবং নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। পরে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব আনা হয়। পুরো অধিবেশনজুড়ে ওই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন সংসদ সদস্যরা। আলোচনা শেষে রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

সোমবার স্পিকার রাষ্ট্রপতির আগমনের ঘোষণা দিলে সশস্ত্র বাহিনীর একটি বাদক দল বিউগলে ‘ফ্যানফেয়ার’ বাজিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সম্ভাষণ জানায়। সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি ঢোকার পর নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।  এর আগে বিকাল ৪টার দিকে সংসদ ভবনে ঢোকেন রাষ্ট্রপতি।

স্পিকারের অনুরোধের পর রাষ্ট্রপতি তার লিখিত ভাষণের সংক্ষিপ্তসার পড়া শুরু করেন। এসময় তার মূল বক্তব্য পঠিত বলে গণ্য করার জন্য স্পিকার শিরীন শারমিনকে অনুরোধ জানান আবদুল হামিদ। স্পিকারের আসনের বাম পাশে রাখা ‘রোস্ট্রামে’ দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন তিনি।

১৪৭ পৃষ্ঠার ভাষণের সংক্ষিপ্তসারে রাষ্ট্রপতি অর্থনীতি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, খাদ্য-কৃষি, পরিবেশ-জলবায়ু, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরেন। এছাড়া দেশে আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত রাখা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারে ভূমিকার প্রশংসা করে ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে সব ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে। সম্প্রতি সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো সাফল্যের সাসঙ্গে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরিভিত্তিতে ২ হাজার  চিকিৎসক ও ৫ হাজার ৫৪ জন নার্সকে নিয়োগ দান করা হয়েছে। কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৫২৫টি সাধারণ বেড, ৬৬৬টি আইসিইউ এবং ৭৩টি ডায়ালাইসিস বেড, ৫৫৪টি ভেন্টিলেটর, ১৩ হাজার ৫১৬টি অক্সিজেন সিলিন্ডার, ৬৭৮ হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা এবং ৬৩৯টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’