মানবতার নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে একটি নিবেদন

মানবতার নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে একটি নিবেদন

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ এবং প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে দুর্যোগগুলোর নাম উল্লেখ করা যেতে পারে-  ১) ঘূর্ণিঝড়, ২) কালবৈশাখী ঝড়, ৩) টর্নেডো, ৪) সাামুদ্রিক জ্বলচ্ছাস, ৫) বজ্রপাত, ৬) অস্বাভাবিক সামুদ্রিক জোয়ার, ৭) ভূমিকম্প, ৮) সুনামি, ৯) অতিবৃষ্টি ১০) অনাবৃষ্টি ১১) বন্যা ১২) নদী ভাঙ্গন ১৩) উপকূল-ভাঙ্গন ১৪) খরা ১৫) মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা ১৬) মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক দূষণ ১৭) ভবন ধস ১৮) পাহাড় ধস ১৯)ভূমি ধস ২০) পাহাড়ি ঢল ২১) শিলাবৃষ্টি ২২) দাবদাহ ২৩) শৈত্যপ্রবাহ ২৪) দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ২৫) অগ্নিকান্ড ২৬) যাবতীয় রাসায়নিক বিষ্ফোরণ ২৭) শিল্পকারখানায় সংগঠিত বিভিন্ন দুর্ঘটনা ২৮) জলযান ডুবি ২৯) মরুকরণ ৩০) বড় ধরণের সড়ক ও ট্রেন দুর্ঘটনা ৩১) জ্বালানী তেল/গ্যাস নিঃসরণ জনিত দুর্ঘটনা ৩২) মহামারী সৃষ্টিকারী যাবতীয় রোগ-ব্যাধি যেমন- ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য জীবনঘাতী রোগ ৩৩) বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ও ৩৪) বর্তমানে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯)  মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানী ঘটছে।  

এছাড়াও এক সমীক্ষায় জানা যায় যে, এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশী বজ্রপাত ঘটছে বাংলাদেশে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ বছরের এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। 

সংবাদপত্র মারফত জানা যায় উল্লিখিত কোন না কোন দুর্যোগে মানুষের প্রাণহানীসহ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী পশু-পাখি, বৃক্ষ, মৎস্য সম্পদসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদ প্রতিবছর নষ্ট হচ্ছে। 

এ অবস্থায় বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতির আমূল সংস্কার করার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে ঘণিভ‚ত হচ্ছে। এর জন্য প্রথম পর্যায়ে দরকার সর্বজনীন কল্যাণে দূরদর্শী চিন্তা-ভাবনা, আলোচনা ও বিচার বিবেচনার বিশ্লেষণ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতি কেমন হওয়া উচিত সেসম্পর্কে ধারণা যদি ঠিক করা যায় তাহলে সেই লক্ষ্যে উদ্ভ‚ত সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।

আমরা জানি, ভৌগলিক কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো- সামগ্রিকভাবে দুর্যোগ মোকাবিলা করার মত প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ সুনির্দিষ্ট কোন দপ্তর জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে নেই। তাই জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর চালু করা এখন সময়ের দাবি। এরই ধারাবাহিকতায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২ পাশের মাধ্যমে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে রুপান্তরিত করে যা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে এ দপ্তরকে জনকল্যাণমূলক ও অর্থবহ করে গড়ে তোলা উচিত। কিন্তুু অতীব দুঃখের বিষয় সুদীর্ঘ ০৮ (আট) বছর অতিবাহিত হলেও জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরাধীন নতুন অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন করা হয়নি। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়। হয়ত কোন মহল দীর্ঘদিন যাবত নতুন অর্গানোগ্রাম প্রণয়নের পিছনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে। 

তাই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

যেহেতু বর্তমান বিশ্বে দুর্যোগ একটি স্পর্শকাতর বিষয়, সেহেতু উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী মেধাবীদের সমন্বয়ে যুগোপযোগী প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং সরঞ্জামসহ পর্যাপ্ত যুক্তিসঙ্গত জনবল নিয়োগ করা একান্ত প্রয়োজন। এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় রোল মডেল হিসেবে অর্জনকৃত সুনাম দীর্ঘস্থায়ীভাবে অক্ষুন্ন রাখা সম্ভব হবে এবং এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্যোগ সহনশীল জাতি গঠন, টেকসই উন্নয়ন (এস ডি জি বাস্তবায়ন) ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

 উল্লেখ্য যে, নতুন অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়নের চ‚ড়ান্ত খসড়া নীতিমালা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ হতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের নিকট একটি নিবেদন রাখতে চাই- এই  অধিদপ্তরের অধীন জেলা বা উপজেলা কার্যালয়ে ৩য় শ্রেণীর কর্মচারীদের মধ্যে আজ বড়ই হতাশা বিরাজ করছে (আমরা বড়ই অসহায়, মাঠ পর্যায়ে আমাদের কাজের পরিধি এতই ব্যাপক যে আমাদের আপনজনরা অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেয়ার জন্য সময়ের অভাবে ডাক্তারের কাছে যাওয়ারও সুযোগ হয়না)। এ পদে সাধারণত পদোন্নতি না থাকায় কর্মস্পৃহা ধরে রাখা সম্ভব হয় না। তাই সকল ৩য় শ্রেণীর কর্মচারীদের নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতির সুযোগ রাখার পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অত্র অধিদপ্তরাধীন সকল ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী ভাইদের পক্ষ হতে আকুল আবেদন জানাচ্ছি। 

এখানে আরো উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, জেলা বা উপজেলা কার্যালয়ে এক যুগেরও অধিককাল ধরে কর্মরত ৩য় শ্রেণীর কর্মচারীদের (অফিস সহকারী পদে) অনেকেই  স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী রয়েছে, যারা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির যোগ্য। এদের পদোন্নতি দিলে সরকারের কিছুটা আর্থিক সাশ্রয় হবে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিশেষ প্রার্থনা নতুন অর্গানোগ্রামে ৩য় শ্রেণীর কর্মচারীদের মধ্য হতে জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ে ২য় শ্রেণীর পদ সৃজনের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পদোন্নতির সুযোগসহ নিয়োগ বিধি প্রণয়নের নিমিত্ত সংশ্লিষ্টদের কার্যকরী দিকনির্দেশনা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ  জানাচ্ছি। 

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আমাদের এই আবদারটুকু যদি অযৌক্তিক, অনর্থক ও অন্যায় বলে মনে হয় তবে আমি সকলের  নিকট ক্ষমাপ্রার্থী।

মানবতার নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহোদয়ের নিকট নিবেদন, মানবিক দিক বিবেচনা করে আমাদের এ চাওয়া-পাওয়া টুকু বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় কার্যকরী ভুমিকা গ্রহণ করুন যাতে আমরা ও আমাদের পরিবার আপনার নিকট  চির কৃতজ্ঞ ভাজন ও চির ঋণী থাকতে পারি (আমরা আশাবাদী কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজের জীবন বাজি রেখে সকল স্তরের জনগণের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন)। 

পরিশেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ হতে আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।  

নিবেদক, 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি এর পক্ষে, 

পি আই ও অফিস, গাইবান্ধা সদর, গাইবান্ধা।