'প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কেউ গুজবে কান দিবেন না'

'প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কেউ গুজবে কান দিবেন না'

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় রাজনৈতিক কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসে গোয়েন্দা সংস্থা যথেষ্ট সতর্ক রয়েছে। কেউ যাতে প্রশ্ন ফাঁস করতে না পারে, সেজন্য এবার ২ হাজার ৭৯০ সেট প্রশ্ন ছাপানো হয়েছে। এজন্য গুজবে কান না দিতে পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ডা. দীপু মনি।। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেউ যাতে প্রশ্ন ফাঁস করতে না পারে, সেজন্য এবার ৫ হাজার ৫৮০ সেট প্রশ্ন প্রণয়ন করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২ হাজার ৭৯০ সেট প্রশ্ন ছাপানো হয়েছে।

তিনি বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন কোনো দল যদি হরতালও দেয় তাতেও পরীক্ষার কোনো সমস্যা হবে না। পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই হবে। এসময় পরীক্ষার্থীদের দায়িত্ব নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময় রাজনৈতিক দলগুলোকে সহিংসতা ও হরতালের মতো কর্মসূচি থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান মন্ত্রী। বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হরতাল দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার মাঝে এমন রাজনৈতিক আচরণ অনুচিত। এদের ব্যাপারে সরকার সতর্ক আছে।

অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফরম পূরণ করেও পরীক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পায়নি, এমন অভিযোগের বিষয়ে ডা. দীপু মনি বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠানে অনুমোদন না থাকলেও সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করা অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে যথাসময়ে ফরম পূরণ করলেও যথাসময়ে প্রবেশপত্র পাচ্ছে না। এজন্য অনেক পরীক্ষার্থী বিভিন্ন বোর্ডে গিয়ে ধরনা দিচ্ছে। অনেকে আবার প্রবেশপত্র না পাওয়ায় পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিছু বিষয় আমাদের নজরে এসেছে। আমরা তা খতিয়ে দেখছি।

তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শিক্ষা সচিব মাহবুব হোসেন, অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক গোলাম ফারুক প্রমুখ।

এর আগে সকাল ১০টায় দেশের ৩ হাজার ৫১২টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। দেশের মোট ২৮ হাজার ৮৮৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসব পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

৯টি সাধারণ বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এই পাবলিক পরীক্ষায় মোট ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ১০ লাখ ২৪ হাজার ৩৬৩ জন, ছাত্রী ১০ লাখ ২৩ হাজার ৪১৬ জন।