দুই দফা কমল টাকার মান

দুই দফা কমল টাকার মান

আবারও মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমানো হলো। গতকাল প্রতি মার্কিন ডলারের দাম ৪৫ পয়সা বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা আগে ছিল ৯১ টাকা ৫০ পয়সা। ডলারের দাম বাজারে ছেড়ে দেওয়ার পর এই নিয়ে তিন দফায় টাকার মান কমানো হলো। সবমিলে গত তিন দিনে টাকার মান কমল প্রায় ২ টাকা ৯৫ পয়সা।

প্রবাসী আয়ের নিম্নমুখী প্রবণতা ও আমদানি ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে গত বছরের আগস্ট থেকে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে ডলারের দাম। মূলত ডলারের চাহিদা বেশি হওয়ায় ধীরে ধীরে দাম বাড়ানোর পথে হাটছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে প্রতিনিয়ত ডলারের বিপরীতে টাকার মান

কমে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ডলারের দাম আরেক দফা বাড়ানোয় রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা লাভবান হবেন। তবে আমদানিকারকদের খরচ আরও বাড়বে। এতে পণ্যমূল্য আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে গত রবিবার একবারে ১ টাকা ৬০ পয়সা বাড়িয়ে ডলারের দাম ৯১ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়। আর গত বৃহস্পতিবার ৯০ পয়সা বাড়িয়ে ডলারের দাম ৮৯ টাকা ৯০ পয়সা করা হয়েছিল। ওইদিন ডলারের দাম ফের বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ডলারের দাম বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সোমবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। এই দামে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকালও ব্যাংকগুলোর কাছে ১৩ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারণ করা রেটই ডলারের আনুষ্ঠানিক দাম। তবে ব্যাংকগুলো আমদানি এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের এই দাম মানছেন না। এখনো আমদানিকারকদের কাছ থেকে ৯৫-৯৬ টাকা আদায় করছে ব্যাংককগুলো। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোতে এখনো নগদ ডলার বিক্রি করা হচ্ছে ৯৮ টাকা পর্যন্ত। ব্যাংকের বাইরে খোলাবাজারেও ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯৭ থেকে ৯৮ টাকায়।