কিছুক্ষণের মধ্যে মুক্তি পাবেন খালেদা জিয়া

কিছুক্ষণের মধ্যে মুক্তি পাবেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে মুক্তি পাবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিও তৈরি হয়েছে। সচিব (সুরক্ষা সেবা) সই করেছেন। আইজি প্রিজন বাকি কাজটুকু করবেন।’

মুক্তির দুই শর্ত আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘মুক্ত হওয়ার পরে ছয় মাস কোনও রাজনেতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না খালেদা জিয়া। তিনি চিকিৎসা নেবেন নিজ বাসায় এবং বিদেশ যেতে পারবেন না। এই দুই শর্তে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।’

রাজনেতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন কিনা সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এখনও। ৬ মাসের জন্য দণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। ফলে তিনি এই সময়কালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারবেন না।’

করোনা সংক্রমণ রোধে প্রায় লকডাউন হয়ে যাওয়া নগরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাসে নিজের অজান্তে আক্রান্ত হওয়ার ব্যবস্থা করবেন না। ফলে বাসার বাইরে যাবেন না।

তিনি বলেন, ‘আপনি অন্যদের ক্ষতি বা আক্রান্ত করবেন কিনা— এটা নিজের হৃদয় দিয়ে বুঝতে হবে। এটা মানবিক বিষয়, প্রত্যেককে বুঝতে হবে।’

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। সেখানে তার সঙ্গে রয়েছেন গৃহকর্মী ফাতেমা। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারে পাঠানো হয় খালেদা জিয়াকে। ওই বছরের ১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গঠিত বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড কারাগারে গিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। এরপর ৭ এপ্রিল বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়। ওইদিন কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন খালেদা জিয়া। ফের ফিরিয়ে নেওয়া কারাগারে। এরপর ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করতে ও চিকিৎসাসেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দুইদিন পর ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর বিকাল পৌনে চারটার দিকে বিএসএমএমইউতে আনা হয় তাকে।

চূড়ান্তভাবে ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করানো হয় তাকে। খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়া সরকার।  তিনি জানান, খালেদা জিয়া ১ এপ্রিল বিএসএমএমইউতে ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন আছেন। সেদিন দুপুর ২.১৫ মিনিটে তিনি ভর্তি হন। আর তার পাশের ৬২২ নম্বর কেবিনটিতে কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলরা অবস্থান করছেন।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রথমে পাঁচ বছরের এবং পরবর্তী সময়ে তা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তার। এই দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।