করোনা সন্দেহে লাশ সৎকারে বাঁধা; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়

করোনা সন্দেহে লাশ সৎকারে বাঁধা; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়

হার্ণিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান সুধীর চন্দ্রশীল ( ৭২ )। মৃতের সৎকার্য সম্পন্ন করতে নেওয়া হয় স্থানীয় শ্মশানে। সাজানো হয় লাশ পোড়ানোর চিতা। শবদাহ করতে আসা লোকজনের  হাতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া  আছে সৎকার্য করার অনুমোদন পত্র । আকস্মিক শবদাহে বাঁধা দিয়ে  সবাইকে তাড়া করে স্থানীয় কিছু হিন্দু লোকেরা। সেই সাথে সাজানো চিতাও ভেঙ্গে  ফেলে  দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি গত ১লা এপ্রিল রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি থানার জামালপুর ইউনিয়নের নটাপাড়া গ্রাম ঘটলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে জনসম্মুখে আসে গতকাল ৬ এপ্রিল। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এনিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।  

মৃতের ভাতিজা অমিও চন্দ্রশীল ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “ আমার পিশেমশাই হার্নিয়ার রোগী ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ ছিলেন । হার্ণিয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়।  আমরা চেয়ারম্যান ,মেম্বারকে মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলাম । তারা আমাদের সৎকার করতে বলেছিলেন। আমরা আমাদের ইউনিয়নের লক্ষ্ণণদিয়া  গ্রামের শ্মশানে চিতা সাজালে এলাকার হিন্দু লোকজন লাঠি নিয়ে তাড়া করে ও চিতা ভেঙ্গে ফেলে । পরে , আমরা মাশালিয়া গ্রামে তার সৎকার্য সম্পন্ন করি।”

এদিকে  ঘটনাটি প্রকাশ  হওয়ার পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এনিয়ে করছে তীব্র সমালোচনা ।  

শিমুল সরকার নামে একজন তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন , “ এ কেমন সমাজ, যেখানে শ্মশান থেকে মৃত দেহকে নামিয়ে আনতে বাধ্য করা হয়।”

এই ঘটনায় নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আশুলিয়া থানা সমাজতান্ত্রিক  ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি পবিত্র কুমার শীল লেখেন “ একটা কুসংস্কারে ভরে যাওয়া সমাজ ,যেখানে চিতায় মৃতদেহ শোয়ানোর পরেও ,সৎকার করতে দেওয়া হয় না। মৃতদেহ নিয়ে পালিয়ে আসতে হয় মৃত ব্যক্তির স্বজনদের।”

এরকম অসংখ্য সমালোচনা  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়ায়, প্রকৃত ঘটনা কি ? বা এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন কি পদক্ষেপ নিয়েছে ? এমন প্রশ্নের উত্তরে জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুস শেখ মুঠোফোনে বলেন, “ উনার স্বাভাবিক  মৃত্যু হয়েছে। আর লাশ পোড়ানোর সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা সম্ভবত ঘটেনি। এমন কিছু ঘটলে আমি অবশ্যই জানতাম।”

এদিকে মৃত্যু করোনায় বা স্বাভাবিক হোক, শেষ ধর্মীয় কাজটুকু যেন সকলের  ভাগ্যে জোটে যেই দাবি করেছেন স্থানীয় সাধারণ জনগন।