করোনা সচেতনতায় প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ

করোনা সচেতনতায় প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছর গ্রীষ্মে করোনা পরিস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল, তাই এ বছর এই আশঙ্কা থেকে মানুষকে আগের মতো সচেতন থাকার জন্য প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য গত বছরের গ্রীষ্মকালের অভিজ্ঞতায় তিনটি বিষয়ের উপর জোর দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রীর তিনটি নির্দেশনার মধ্যে প্রথমত রয়েছে, যে যেখানেই থাকেন না কেন, করোনার টিকা নেন বা না নেন, সবাই যেন অবশ্যই মাস্ক পরেন। দ্বিতীয়ত, যথাসম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং তৃতীয়ত, জনসমাগম যেখানে হচ্ছে, সেখানে যেন নির্ধারিতসংখ্যক মানুষ থাকে। কারও যেতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি যেন ঠিকমতো মানা হয়।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান। শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা যেন না ভাবি আমরা খুবই ভালো অবস্থায় (কমপোর্ট জোন) আছি। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো আছি।’

আনোয়ারুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গত বছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ গ্রীষ্মকালেই বেড়েছিল। সুতরাং এ বছর সেটা হবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশেষজ্ঞরাও এপ্রিল, মে ও জুন মাসের ওপর দৃষ্টি দিতে বলেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠকে আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আসছে রমজানে প্রয়োজনীয় ছয়টি পণ্যের যথেষ্ট মজুদ রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তেল, চিনি, ছোলা, মশুর ডাল, খেজুর, পেঁয়াজ—এই ছয়টি পণ্য টিসিবির মাধ্যমে আমদানি করতে হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ‘শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আইন করা হয়েছে। বর্তমানে এক হাজার সিটের বাইরে আরও ১০০ সিট বাড়ানো হবে।’

মন্ত্রিসভার বৈঠকে কুড়িগ্রামে নতুন একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম হবে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’। এটি হলে দেশে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় হবে ৪৯টি।