অযাচিত মাস্ক পরলেই করোনার ঝুঁকি বেশি

অযাচিত মাস্ক পরলেই করোনার ঝুঁকি বেশি

চীনের উহান থেকে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বের শতাধিক দেশে। রবিবার (৮ মার্চ) এই তালিকায় যোগ হয়েছে বাংলাদেশের নাম। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের আগমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে পুরো দেশে। ইতোমধ্যে খাদ্য সামগ্রী, মাস্ক ও স্যানিটাইজার মজুদ করছেন অনেকেই। মাস্কের দাম বেড়ে গেছে ৪/৫ গুণ। তবে মার্কিন বিজ্ঞানীরা দিচ্ছেন ভিন্ন তথ্য। তারা জানাচ্ছেন করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় মাস্কের দরকার নেই। বরং মাস্ক ব্যবহারের কারণেই এই ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করোনায় প্রাণহানির সংখ্যা গড়ে মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এটি প্রতি বছরের অন্যান্য ফ্লুবাহিত রোগের প্রাণহানির মতোই। অযথা আতঙ্কিত না হয়ে, সচেতনতা অবলম্বন করলেই এই ভাইরাস তেমন কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। 

এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩ হাজার ৬৫০ জন, যাদের প্রায় সবারই আগে থেকে ডায়াবেটিস, কিডনি কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্য জটিলতা ছিল এবং বয়সে বৃদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে অযথা আতঙ্ক ছড়িয়ে মাস্ক কিংবা অন্যান্য প্রতিরোধ সামগ্রী মজুদ করে বৈশ্বিক সংকট তৈরি না করাই সচেতন মানুষের কাজ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান, মেডিসিন, স্বাস্থ্য ও ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ তারা হায়েলে ফোর্বস ম্যাগাজিনে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখেছেন। তিনি অযথা মাস্ক না পরার পরামর্শ দেন। 

এমনকি আপনার পাশেই যদি কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়, তাহলেও সার্জিক্যাল মাস্ক, এন৯৫ মাস্ক, শ্বাসযন্ত্রের মাস্ক কিংবা অন্য কোনো ধরনের মাস্ক পরার দরকার নেই। এগুলো কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই। মাস্ক পরতে হবে সংক্রমিত ব্যক্তিকে যেন তা অন্য কারও মাঝে সংক্রমণ ঘটাতে না পারে। 

বিশেষজ্ঞ এলি পেরেনসেভিচ জানান, সুস্থ ব্যক্তিদের মাস্ক পরার দরকার নেই, এটি উচিত নয়। সুস্থ মানুষ মাস্ক পরলে করোনা থেকে রক্ষা পাবেন এমন কোনো প্রমাণ নেই। অকারণে মাস্ক পরায় বরং সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেশি বাড়ছে। কারণ মাস্ক পরার পর বারবার মুখ স্পর্শ করছেন। তাই, শুধুমাত্র অসুস্থ হলেই মাস্ক পরুন, অন্যথায় নয়।

মুখ ও নাকে যেন কোনোভাবে করোনা ভাইরাস পৌঁছাতে না পারে, সে লক্ষ্যেই অধিকাংশ মানুষ মাস্ক পরছেন। কিন্তু এই ভাইরাস হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ছড়ায়, বাতাসের মাধ্যমে নয়। এর অর্থ হচ্ছে আপনি এলোমেলোভাবে নিশ্বাস নিতে পারবেন না। মাস্ক পরার মাধ্যমে এই সংক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। 

কখন মাস্ক পরবেন? 

যখন আপনি অসুস্থ এবং বাসা থেকে বাইরে যাবেন তখনই কেবল মাস্ক পরতে হবে। বিশেষজ্ঞ এলি পেরেনসেভিচ বলেছেন, যদি মনে করেন আপনি করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন কিংবা ফ্লুতে ভুগছেন তবেই সুরক্ষার জন্য মাস্ক পরুন। 

মার্কিন এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আরও বলেছেন, আপনার বাড়ির কেউ যদি করোনা সংক্রমিত হয় এবং আপনি যদি তার সেবা করেন তবে মাস্ক পরা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এ সময় সংক্রমিত ব্যক্তিকেও মাস্ক পরতে হবে। 

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ১ লাখ ১০ হাজার ৬৬ জন এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৩০ জনে। তবে আশা জাগানিয়া তথ্য হচ্ছে এরই মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত ৬২ হাজার ২৭৮ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন।