অবশেষে জয়ের মুখ দেখলো সিলেট

অবশেষে জয়ের মুখ দেখলো সিলেট

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে এসে জয়ের দেখা পেল সিলেট থান্ডার। শনিবার দিনের প্রথম ম্যাচে খুলনা টাইগার্সকে ৮০ রানে হারিয়েছে তারা। ৫ ম্যাচ খেলে ২ পয়েন্ট তারা পয়েন্ট টেবিলে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, ৪ ম্যাচ খেলে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা।

এদিন চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে সিলেট থান্ডারের দেয়া ২৩৩ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১৮.৩ ওভারে ১৫২ রান করে অলআউট হয় খুলনা টাইগার্স। দলের পক্ষে ৩২ বলে ৫২ রান করেন রিলি রুশো। ২০ বলে ৪৪ করেন ফ্রাইলিঙ্ক। সিলেটের বোলারদের মধ্যে মনির হোসেন ২টি, ক্রিসমার সানতোকি ৩টি, ইবাদত হোসেন ২টি ও নাভিন-উল-হক ১টি করে উইকেট নেন।

বিশাল লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় খুলনা। ফিরে যান গুরবাজ। তবে, এই ধাক্কা বুঝতে দেননি রুশো-সাইফ। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৭৪ রানের পার্টনারশিপ করেন তারা। দলীয় ৭৫ রানে রান আউট হন সাইফ।

সাইফ ফেরার পরই শুরু হয় ব্যাটিং বিপর্যয়। দশম ওভারে বিদায় নেন নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান রুশো। ১২তম ওভারে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন শামসুর। ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহিম ফিরে যান ৮ বলে ১২ রান করে। তারপর দলকে টেনে তোলার মতো ইনিংস খেলতে পারেননি কেউ।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে আন্দ্রে ফ্লেচার ও জনসন চার্লসের দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে বড় সংগ্রহ পায় সিলেট থান্ডার। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৩২ রানের পাহাড় গড়ে তারা।

শনিবার প্রথম সেঞ্চুরি দেখেছে বঙ্গবন্ধু বিপিএল। ৫৭ বলে ১১টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ১০৩ রান করে অপরাজিত থাকেন সিলেট থান্ডারের ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার। বিপিএলের ইতিহাসে এটি ১৯তম সেঞ্চুরি। অন্যদিকে, চার্লস ৩৮ বলে ৯০ রানের ভয়ঙ্কর ইনিংস খেলেন।

এদিন প্রথম ওভারেই সিলেট থান্ডারের প্রথম উইকেট তুলে নেন খুলনার দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড় রব্বি ফ্রাইলিঙ্ক। ডানহাতি ব্যাটসম্যান আব্দুল মাজিদকে শিকার করেন তিনি।

এরপর ক্রিজে জুটি বাঁধেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ব্যাটসম্যান আন্দ্রে ফ্লেচার ও জনসন চার্লস। শুরু থেকেই বিধ্বংসী রুপে ব্যাট চালান তারা। তাই পাওয়ারপ্লেতে ৭২ রান পায় সিলেট। আর ইনিংসের অষ্টম ওভারে ২৫ বলে হাফ সেঞ্চুরির স্বাদ নেন চার্লস। ফ্লেচার ২৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

চার্লস-ফ্লেচারের ব্যাটিং ঝড়ে নবম ওভারেই সিলেটের স্কোর শতরানে পৌঁছায়। আর হাফ সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরির দিকে ছুটতে থাকেন তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্য চার্লসের। নার্ভাস নাইন্টিতে লেগ বিফোর ফাঁদে পড়েন তিনি। ১১টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৩৮ বলে ২৩৬ স্ট্রাইক রেটে ৯০ রান করেন চার্লস। ডানহাতি পেসার শহীদুল ইসলাম আউট করেন চার্লসকে।

চার্লস ব্যর্থ হলেও টি-২০ ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পান ফ্লেচার। ৫৩ বলে ১১টি চার ও ৫টি ছক্কায় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তার সেঞ্চুরির আগে ১৭তম ওভারে সিলেটের দলীয় রান ২০০ স্পর্শ করে। ফ্লেচার সেঞ্চুরির পান ১৯তম ওভারে। সবমিলিয়ে রানের পাহাড় দাঁড় করায় সিলেট। এবারের আসরে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় রান। খুলনার ফ্রাইলিঙ্ক ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন।